# MOTOLUB / MOTOLUB GOLD #
👉 আপনার বাইকে কোন ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করবেন?
– ইঞ্জিন অয়েলের ব্যবহার
ইঞ্জিন অয়েল ইন্জিনের ভেতরে তিনটি প্রধান কাজ করে থাকে। প্রথমত লুব্রিকেন্ট বা পিচ্ছিলকারক হিসেবে ইন্জিনের ভেতরের যন্ত্রগুলোতে চলতে বা ঘুরতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ঘর্ষনে এবং কম্বাশনের ফলে উৎপাদিত তাপকে কমিয়ে রাখতে সাহায্য করে।তৃতীয়ত ইঞ্জিনের ভেতরে ময়লাগুলোকে পরিস্কারে সাহায্য করে, পিস্টন রিং ও সিলিন্ডারের মধ্যে লিকপ্রুফ হিসেবে কাজ করে যাতে কম্প্রেশন লিক না হয়।
মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের মধ্যে অনেকগুলো ধাতব যন্ত্রাংশ থাকে যা একটির সাথে আরেকটি কখনো দাতযুক্ত গিয়ারে লেগে থাকে, কখনও ঘুরতে থাকে বা কোনটি ঘষা খায়। যেমন চালু অবস্থায় ইঞ্জিনের পিস্টনটি একটি সিলিন্ডারের ভেতরে প্রচন্ডজোরে উপরে নিচে উঠা নামা করতে থাকে। পিস্টনের রিংগুলো সিলিন্ডারের গায়ে তীব্রবেগে ঘষা খেতে থাকে। যাইহোক এই ধরনের ঘর্ষনজনিত ক্ষয়রোধ এবং ইঞ্জিনকে গতিশীল রাখতে লুব্রিকেন্ট সাহায্য করে।
ইঞ্জিনের ভেতরে যন্ত্রাংশগুলোর ঘর্ষনে তাপ তৈরী হয় এছাড়াও ইঞ্জিন সিলিন্ডারে যেখানে জ্বালানি পুড়তে তাকে সেখানে প্রচন্ড তাপ তৈরী হয়। এই ধরনের তাপকে কমিয়ে রাখতে সাহায্য করে ইঞ্জিন ওয়েল।
এছাড়াও ক্লাচ সিস্টেম ও গিয়ারবক্সের পিচ্ছিল্করনে ও তাপ দূরীভূতকরনেও ইঞ্জিন ওয়েলের ভুমিকা আছে।
প্রতি ৮০০-১০০০কিমি অন্তর ইঞ্জিন ওয়েল পরিবর্তন করা জরুরী। প্রথমত এই পরিমান পথ চললে এমনিতেই ইঞ্জিন অয়েল কার্যকারীতা কমে যায়, দ্বিতীয়ত ইঞ্জিনের ভেতরে ঘষর্ন বা অন্য কারনে জমে থাকা ধাতব কনা বা ময়লা পরিস্কারের প্রয়োজন পড়ে।
👉 ইঞ্জিন অয়েলের ধরন
মোটরসাইকেলের জন্য সাধারনত দুই ধরনের ইঞ্জিন ওয়েল ব্যবহার হয়। একটি হলো খনিজ বা Mineral. যেটি প্রাকৃতিক উপায়ে খনি থেকে পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ থেকে আসে। আরেকটি কেমিক্যাল থেকে তৈরী করা হয় যা কৃত্রিম বা সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল। বাস বা কারের ইঞ্জিন অয়েল কখনই মোটরসাইকেলের উপযোগী নয় এবং বর্তমানে সকল মোটরসাইকেলই ৪স্ট্রোক বিশিষ্ট। তাই যেসকল ইন্জিন ওয়েলের প্যাকেটে 4T লেখা আছে শুধু সেগুলোই ব্যবহার করতে হবে। এগুলো ৪স্ট্রোক ইঞ্জিনের জন্যই প্রযোজ্য। মিনারেল ইঞ্জিন ওয়েল সাধারনত প্রতি ৮০০কিমি থেকে ১০০০কিমি অন্তর পরিবর্তন করা হয়ে থাকে। সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল সাধারনত মিনারেলের থেকে বেশি সময় কার্যকর থাকে। লক্ষ্য রাখবেন মোটরসাইকেল ইঞ্জিনে তিনটি ইউনিট থাকেঃ ইঞ্জিন, ক্লাচ সিস্টেম, গিয়ারবক্স কিন্তু অন্যান্য বড় বাহনে ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স, ক্লাচ আলাদা আলাদা ইউনিট হিসেবে কাজ করে। তারমানে হচ্ছে মোটরসাইকেল ইঞ্জিন অয়েলের এমন গুন থাকতে হবে যা একই সঙ্গে ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স ও ক্লাচ সিস্টেমে ভালো ভাবে কাজ করবে। কিন্তু অন্যান্য বাহনের ইঞ্জিন অয়েল শুধুমাত্র ইঞ্জিন ইউনিটে ব্যবহারের জন্য প্রস্তত। কাজেই মোটরসাইকেল ইঞ্জিন অয়েল কেনার সময় লক্ষ্য রাখবেন তা শুধু মোটরসাইকেলের জন্যই প্রস্তত কিনা। কিভাবে বুঝবেন ইঞ্জিন অয়েলের ক্যান বা বোতলের গায়ে লেখা থাকবে ইহা মোটরসাইকেলের জন্য প্রস্তত। স্কুটারের ক্ষেত্রেও তদ্রুপ প্রযোজ্য। কাজেই যে ইঞ্জিন অয়েল মোটরসাইকেলের জন্য নয় তা কখনোই ব্যবহার করবেন না। কারন ইহা মারাত্নক ক্ষতিকর।
👉ইঞ্জিনওয়েলের গ্রেড
Society of Automotive Engineers (SAE) কর্তৃক মোটরসাইকেল ইঞ্জিন ওয়েলের নম্বর ভিত্তিক গ্রেড নির্ধারন করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ওয়েল বিভিন্ন গ্রেডের হয়ে থাকে। গ্রেডের মাধ্যমে মুলত ইঞ্জিন ওয়েলের ঘনত্ব(Viscocity) ও কেমন আবহাওয়ায় কোন যানের জন্য প্রস্তত তা বুঝিয়ে থাকে। গ্রেড সিংগেল এবং মাল্টি দুটিই হতে পারে। আমাদের দেশে মাল্টিগ্রেড ইঞ্জিন ওয়েল ব্যবহার করা হয়। মাল্টি গ্রেড মার্কের দুটি অংশ থাকে। প্রথম অংশটি কমতাপামাত্রায় কার্যকারিতা নির্দেশ করে যেমন 20W, 10W ইত্যাদি। মান যত কম হবে ততো কম তাপমাত্রায় অর্থাত বেশি শীতে কাজ করবে। আর পরের অংশটি গরম বা বেশি তাপ নির্দেশক। যেমন 30, 40, 50 ইত্যাদি। এই মান যত বেশি হবে ততো বেশি তাপে বা বেশি গরমকালে কাজ করবে। সহজ কথা এই গ্রেড নির্দশকের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি কোনসময়ে কোনটি ইনজিনওয়েলটি ব্যবহার করবো। আমাদের দেশে সাদারনত 10W-30, 20W40, 20W-50,15,w40 ইত্যাদি গ্রেড দেখা যায়। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে মোটরসাইকেলের কোম্পানীকতৃক নির্ধারিত গ্রেডের ইঞ্জিন ওয়েল ব্যবহার করাই সবচাইতে উত্তম।
👉ইঞ্জিন ওয়েলের মান(Standard)
কিছু প্রতিষ্ঠানের মানকে ইঞ্জিনওয়েলের জন্য নির্ধারিত হয়ে তাকে যেমন API (American Petroleum Institute), JASO (Japanese Automotive Standards Organization ), ILSAC (The International Lubricant Standardization and Approval Committee), ASTM (American Society for Testing and Materials) ইত্যাদি।
👉জনপ্রিয় ব্রান্ড
বাংলাদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিংগাপুর, থাইল্যান্ড, ইনডিয়া এবং অন্যান্য দেশ থেকে ইঞ্জিন ওয়েল আমদানী হয়ে থাকে।প্রচলিত অনেক ব্রান্ড রয়েছে যারা জনপ্রিয় তাদের মধ্যে Shell, Mobil, Petronas, Fuchs, ENEOS, Caltex, Visco, BP, Total, Cepsa, Valvoline, Lukoil, Motul, Havoline ইত্যাদি।
👉কোথায় থেকে কিনবেন
নকল ইঞ্জিন ওয়েল নিয়ে আক্ষেপ সবারই। অনেক দোকান থেকে প্যাকেটজাত বা কৌটাতে ইঞ্জিন ওয়েল কেনার পরেও নকল পেয়েছেন বলে জানা যায়। সঠিক ইঞ্জিন ওয়েল পেতে ঐ ব্রান্ডের নির্ধারিত ডিলার বা হোল সেলস সেন্টার থেকে কিনুন। রাস্তার ধারের খোলা ইঞ্জিন ওয়েল বা অপরিচিত দোকান থেকে ইনজিন ওয়েল কেনা থেকে বিরত থাকুন। আপনার এলাকার পরিচিত ও বিশ্বস্ত দোকান থেকেই সিল চেক করে কিনুন বা সরাসরি ডিলারের কাছ থেকে। মনে রাখবেন যেটা ভেজাল সেটা একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন।
👉সতর্কতা
বাইকে খোলা ইঞ্জিন ওয়েল ব্যবহার করবেন না। ইঞ্জিন ওয়েলে কৌটা থেকে ঢেলে কৌটাটি ফুটো করে দিন বা নষ্ট করে দিন। কেননা অনেক অসাধু ব্যক্তি ব্যবহৃত ভালো কৌটা সংগ্রহ করে তাতে নতুনভাবে নকল ইঞ্জিন ওয়েল ভর্তি করে বিক্রি করে থাকে। হয়তো আপনি নিজেই হবেন সেই ক্রেতা। সামান্য অসতর্কতায় আপনার লক্ষ টাকার বাইক নষ্ট হবে।
সমাপ্তি
